ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে চলমান আলোচনা পর্যবেক্ষণ করছেন জ্বালানি তেলের বাজারের বিনিয়াগকারীরা। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে এলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল পণ্যটির দাম কিছুটা কমেছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ৫৭ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৩ ডলার ১৮ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম নেমে এসেছে ব্যারেলে ৫৯ ডলার ৪৮ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৬০ সেন্ট বা ১ শতাংশ কম।
ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পিভিএমের অয়েল মার্কেট অ্যানালিস্ট তামাস ভারগা বলেন, ‘বর্তমানে বাজারের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।’ ইউক্রেনের বিষয়ে শিগগির কোনো চুক্তি হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল রফতানি বাড়বে। সে সময় পণ্যটির দাম কমে আসতে পারে।’
এর আগে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষ দিনে জ্বালানি তেলের উভয় বাজার আদর্শের দাম গত ১৮ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমাতে পারে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। ফেড সুদহার কমালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। এ কারণে জ্বালানি তেলের দামও বেড়ে গিয়েছিল।
এলএসইজি ডাটা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবারের সভায় ফেডের ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এখন ৮৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউরোপে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও রাশিয়ার দখলকৃত এলাকায় স্থিতি নিয়ে বিতর্ক এখনো সমাধান হয়নি। এছাড়া শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ভিন্নমত রয়েছে।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার বিশ্লেষক বিবেক ধর বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় না থাকা এবং দাম বাড়ার কারণ হলো রাশিয়ার জ্বালানি তেল অবকাঠামোয় ক্ষতি। রাশিয়া থেকে সামনের দিনগুলোয় যদি পণ্যটির সরবরাহ বাড়ে, তাহলে ২০২৬ সালে জ্বালানি তেলের দাম নেমে যেতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে।’
এদিকে গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার জ্বালানি তেলের প্রাইস ক্যাপ (কোনো পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য বা দাম নির্ধারণের নিয়ম) পরিবর্তন করে সমুদ্রপথে দেয়া সেবা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। এতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো কমে যেতে পারে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। অবৈধ মাদক পাচারের জাহাজে অভিযানসহ দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করার সামরিক পদক্ষেপের কথাও চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুরাজনৈতিক এমন উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।